নিঃসঙ্গতার ক্যানভাসে আঁকা স্মৃতি
মনের গহীন থেকে উঠে আসে কিছু অবাধ্য শব্দ
কাফনের মত শাদা কাগজের বুকে
আলতো ছোঁয়ায় অক্ষর রঙে এঁকে যায় ছবি।
সাধ্য কি আছে কারো আজ তারে রুখে?
চেনা কোনো অবয়ব নেই,
নেই সুর-সংগীতের জপ ;
আছে শুধু বিমূর্ত কিছু অনুভূতি —
যা কখনো রোদ্দুর, কখনো বা শ্রাবণের মেঘ হয়ে বিচরণ করে।
ছিটকে পড়া পারদের মতো
বিচ্ছিন্ন কিছু স্মৃতি ;
একত্র করার কেউ নেই —
দূর থেকে কানে বাজে ভাঙ্গনের গীতি!
চৈতালি বাতাসে, ঝরে পড়া পত্রের রোদন ধ্বনি।
নিস্তব্ধ রাতের আকাশ
যেন এক বিশাল ক্যানভাস
যেখানে জলরঙে আঁকা হয় শুধুই দীর্ঘশ্বাস।
কেমন বোকা আমি বলতো?
ঘৃণা জন্মানো হৃদয়ে নিরন্তর ভালোবাসা খুঁজি!
যে হৃদয়ে জন্ম নিতে পারতো ভালোবাসার ভ্রূণ,
বেড়ে উঠতে পারতো মুক্ত আলো-হাওয়ায়;
সেখানে আজ ঘুটঘুটে অন্ধকারের দাপুটে বসত।
আমি আলোর আশায় কেবলই অন্ধকারের বীজ বুনেছি,
মায়াবী ঘোরে করে গেছি বিষাদের চাষ!
মরীচিকার পিছে ছুটে তৃষ্ণার্ত চাতক হয়েছি।
জানতাম না,একদা বুকে চাপানো পাথরে শ্যাওলা জমেছে!
তাতে কোনোদিনও আর অনুরাগের ফুল ফুটবে না।
তবুও এই বোকা মন আজও অলীক স্বপ্ন বোনে,
ক্ষতের গভীরে লুকানো কোনো এক চেনা ক্ষণে;
হয়তো কোনোদিন এই ঘন কালো মেঘ কেটে যাবে,
আবার কোনো এক বসন্তে, মন আলো খুঁজে পাবে।
অন্ধকার তো আলোহীনতার এক গভীর বেদনা
কখনো কখনো আলো হারায়, আসলে তা মরে না।
অশরীরী কাব্য
বস্তুত সব শরীর একই
শুধু তার ঘ্রাণে ভিন্নতা —
অনাদিকালের সেই ঠোঁট,
সেই গ্রীবা, নাক-কান, মুখ
সবকিছুতেই একই সুখ ও অসুখ!
সেই স্তন, সেই নাভি, সেই উরু
বিকৃত পতনেরও যেখানে শুরু!
শিল্পীর সৃষ্টিতে কত কারুকাজ
দর্শনে ভিন্নতায় বহুরূপী সাজ!
অথচ হৃদয় কত বৈচিত্র্যময়
প্রতিমুহূর্তে বর্ণিল রঙে বদলায়।
কখনো অমৃত সুধায়,
কখনো বা বিষাদ-বেদনায়।
শরীর টানে না আজ; মন টানে অবিরত
সন্ধান করি তাই তাঁরেই প্রতিনিয়ত।
কাঁটাতারে ঝুলন্ত মানবতা
হিংস্রতায় বিষাক্ত আজ মানুষের মন,
সীমানায় তোড়জোর কাঁটার আয়োজন!
কাঁটাতারে বিঁধে থাকে ক্ষুধার্ত শৈশব,
অমানুষ কেড়ে নেয় মানুষের কলরব!
জিঘাংসু বৃত্তিতে প্রাণঘাতী খেলা,
পৈশাচিকতায় মোড়া মারণাস্ত্রের মেলা।
শিকল ভাঙার গান গেয়ে যাও বারে বার,
ভেঙে ফেলো শৃঙ্খলিত মানবতার দ্বার।
বিবেকের সমাধি থেকে উঠে আসে
কাদা-ধুলি লেপ্টানো কাফনের অবয়ব
দুঃখ জড়ানো সুখে, যে ছিল মাটির বুকে।
মিছিলের নিনাদে
অচেনা গহীন খাদে
আজ কেন ডাকো তারে বিষাদের ভারে?
নদী কিংবা খালে-বিলে-হ্রদে
বিপন্ন জনপদে, বয়ে যায় রক্তের স্রোত!
নিতে পারে না চোখ
হৃদয় মথিত শোক,
মুছে যাবে কেমনে যে শীতল হবে?
ধুয়ে যাবে অবিরত বারি বর্ষণে
বৃষ্টিস্নাত শহরে ফুটবে নতুন সকাল…।
উৎস: Nishinile



